সকল ইসলামিক ব্লগে ফিরে যান
পারিবারিক জীবন ৫০ মিনিট পাঠ সময় • 23 August, 2026

মা-বাবার সেবা ও অধিকার এবং ইসলামী পরিবার গঠনের সহীহ দিকনির্দেশনা (পূর্ণাঙ্গ গাইড)

নূর-ই-ইসলাম গবেষণা দল
সহীহ কুরআন ও হাদিসভিত্তিক ইসলামিক গাইডলাইন
মা-বাবার সেবা ও অধিকার এবং ইসলামী পরিবার গঠনের সহীহ দিকনির্দেশনা (পূর্ণাঙ্গ গাইড)

ইসলামে একত্ববাদ ও তাওহীদের পর মানবীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পিতা-মাতার সম্মান, সেবা ও তাদের অধিকার আদায়ের ওপর। মা-বাবার সন্তুষ্টিতেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত। একইসাথে একটি সুসংগঠিত, শান্তিময় ও আদর্শ ইসলামী পরিবার গঠনে পিতা-মাতা এবং সন্তানদের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ভূমিকা অপরিসীম।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলার কঠোর নির্দেশ:
"আপনার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সৎব্যবহার করবে। তাদের একজন বা উভয়ে যদি আপনার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাদের উদ্দেশ্যে 'উফ' শব্দটিও বলো না, তাদের ধমক দিয়ো না; বরং তাদের সাথে সম্মানসূচক কথা বলো।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩)

মায়ের বিশেষ মর্যাদা (৩ গুণ বেশি হকের অধিকারী)

সন্তানকে ৯ মাস গর্ভে ধারণ করা, প্রসববেদনা সহ্য করা এবং নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে দুধ পান করিয়ে বড় করে তোলার কারণে মাতা সন্তানের নিকট বিশেষ ৩ গুণ বেশি খেদমতের হকদার।

এক সাহাবী এসে জিজ্ঞেস করলেন: "হে আল্লাহর রসূল! আমার নিকট থেকে সর্বোত্তম আচরণ ও ভালোবাসা পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার কে?" রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: "তোমার মা।" সাহাবী আবার জিজ্ঞেস করলেন: "তারপর কে?" নবীজী বললেন: "তোমার মা।" সাহাবী ৩য় বার জিজ্ঞেস করলেন: "তারপর কে?" নবীজী বললেন: "তোমার মা।" ৪র্থ বার জিজ্ঞেস করার পর নবীজী বললেন: "তারপর তোমার বাবা।" (সহীহ বুখারী: ৫৯৭১, সহীহ মুসলিম: ২৫৪৮)

পিতা-মাতার জন্য কুরআনী দো'আ

জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর মা-বাবার জন্য এই দো'আটি নিয়মিত পাঠ করা প্রত্যেক সন্তানের ঈমানী আমল:

رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
উচ্চারণ: রব্বির হামহুমা- কামা- রব্বায়া-নী ছগীরা-।
অর্থ: হে আমার রব! আমার পিতা-মাতার প্রতি দয়া করুন; যেভাবে তারা শৈশবে আমাকে স্নেহ ও মমতায় লালন-পালন করেছেন। (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৪)।

পিতা-মাতার মৃত্যুর পর সন্তানের ৪টি প্রধান দায়িত্ব

  1. ক্ষমা প্রার্থনা ও দো'আ করা: প্রতিদিন মা-বাবার আত্মার মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর কাছে দো'আ করা।
  2. ঋণ ও অসিয়ত পূরণ: তাদের ওপর কোনো দেনা/ঋণ থাকলে বা কোনো সহীহ অসিয়ত থাকলে তা দ্রুত আদায় করা।
  3. আত্মীয়তা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক রক্ষা: মা-বাবার জীবনদ্দশার বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ করা।
  4. দান-সদক্বাহ করা: মা-বাবার পক্ষ থেকে সাplus সদক্বা-ই-জারিয়াহ (যেমন: মসজিদ, কূপ খনন বা জ্ঞান বিতরণ) করা।

একটি আদর্শ ও শান্তিময় ইসলামী পরিবার গঠনের ১০টি স্বর্ণালী নিয়ম

  • সালাতের পরিবেশ গঠন: ঘরে নিয়মিত জামাআতে ও ওয়াক্তমতো সালাত আদায়ের চর্চা রাখা।
  • কুরআন তিলাওয়াত: প্রতিদিন সকালে ঘরে সুর করে কুরআন তিলাওয়াতের পরিবেশ বজায় রাখা।
  • পারস্পরিক সম্মান ও ধৈর্য: স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার সুসম্পর্ক ও একে অপরের প্রতি সহনশীল হওয়া।
  • সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া: ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের তাওহীদ, সালাত ও চরিত্র গঠন শিক্ষা দেওয়া।
  • হালাল উপার্জন: পরিবারে কেবল হালাল রিজিক ও হালাল আয়ের খানা নিশ্চিত করা।

আলহামদুলিল্লাহ

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে পিতা-মাতার খেদমত করার এবং আমাদের ঘরগুলোকে ইসলামী আদর্শে সুখী ও শান্তিময় পরিবারে রূপান্তর করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

অন্যান্য ব্লগ পড়ুন