সকল ইসলামিক ব্লগে ফিরে যান
দৈনন্দিন আমল ৫০ মিনিট পাঠ সময় • 23 August, 2026

দৈনন্দিন জীবনে সকাল-সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ দো'আ ও যিকর (উচ্চারণ, অর্থ ও ফযীলত সহ পূর্ণাঙ্গ মাসনূন গাইড)

নূর-ই-ইসলাম গবেষণা দল
সহীহ কুরআন ও হাদিসভিত্তিক ইসলামিক গাইডলাইন
দৈনন্দিন জীবনে সকাল-সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ দো'আ ও যিকর (উচ্চারণ, অর্থ ও ফযীলত সহ পূর্ণাঙ্গ মাসনূন গাইড)

প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত জীবনে আত্মপ্রশান্তি, শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি, অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদাপদ থেকে আত্মরক্ষা এবং মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত লাভের অন্যতম সর্বোত্তম মাধ্যম হলো সকাল-সন্ধ্যার জিকির ও মাসনূন দো'আসমূহ। প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে নিয়মিত প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং বিকেলে সুর্যাস্তের পূর্বে বিশেষ কিছু দো'আ ও যিকর পাঠ করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও তা নিয়মিত আমল করার তাগিদ দিয়েছেন।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন:
"সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করবো। আর আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, অকৃতজ্ঞ হইয়ো না।" (সূরা আল-বাকারা: ১৫২)
"আর তোমার রবকে মনে মনে বিনীত ও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে মৃদু স্বরে সকালে ও সন্ধ্যায় স্মরণ করো এবং তুমি উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হইয়ো না।" (সূরা আল-আ'রাফ: ২০৫)

সকাল-সন্ধ্যার আমল করার সঠিক সময়সূচী

মাসনূন আমলসমূহ সঠিক সময়ে পালন করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। মুহাদ্দিসীনে কেরাম ও ফকীহগণের মতে সকাল ও সন্ধ্যার যিকরের উত্তম সময় হলো:

  • সকালের যিকরের সময়: ফজরের সালাত আদায়ের পর থেকে শুরু করে সূর্যোদয় পর্যন্ত (অথবা চাশতের সময় পর্যন্ত)।
  • সন্ধ্যার যিকরের সময়: আসরের সালাতের পর থেকে শুরু করে সুর্যাস্ত বা মাগরিবের পর এশার পূর্ব পর্যন্ত।

১. আয়াতুল কুরসী (সকাল ও সন্ধ্যায় ১ বার)

সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা পাঠকারীকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী সকাল পর্যন্ত জিন ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদে রাখেন।

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
উচ্চারণ: আল্লা-হু লা-ইলা-হা ইল্লা-হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বায়্যুম। লা- তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা- নাওম। লাহু মা- ফিস্ সামা-ওয়া-তি ওয়ামা- ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ‘ইন্দাহু ইল্লা- বিইযনিহি। ইয়া’লামু মা- বাইনা আইদীহিম ওয়ামা- খালফাহুম, ওয়ালা- ইউহীতূনা বিশাইইম্ মিন ‘ইলমিহী ইল্লা- বিমা- শা-আ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বা, ওয়ালা- ইয়াউদুহু হিফজুহুমা- ওয়াহুওয়াল ‘আলিয়্যুল ‘আজীম।
অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর তারা তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দুটির সংরক্ষণ তাঁর জন্য কঠিন নয়। আর তিনি অতি উচ্চ, মহান।
সনদ ও ফযীলত: সহীহ আল-তারগীব ওয়াত তারহীব (হাদিস: ৬৬১), নাসায়ী। যে ব্যক্তি সকালে পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত শয়তানের ক্ষতি থেকে সংরক্ষিত থাকবে।

২. সূরা আল-ইখলাস, সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস (সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার করে)

প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এই তিন সূরা তিনবার করে পাঠ করলে দুনিয়া ও আখেরাতের সকল প্রকার অনিষ্ট, হিংসা, ব্ল্যাক ম্যাজিক (জাদু-টোনা) এবং ক্ষয়ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য তা যথেষ্ট হয়ে যায়।

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اللَّهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ﴿١﴾ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ﴿٢﴾ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ﴿٣﴾ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ﴿٤﴾ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿١﴾ مَلِكِ النَّاسِ ﴿٢﴾ إِلَٰهِ النَّاسِ ﴿٣﴾ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ﴿٤﴾ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ﴿٦﴾
সনদ ও ফযীলত: আবু দাউদ (হাদিস: ৫০৮২), তিরমিযী (হাদিস: ৩৫৭৫)। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "তুমি সকালে ও সন্ধ্যায় এগুলো ৩ বার পাঠ করো, তা তোমার সকল বিষয়ের জন্য যথেষ্ট হবে।"

৩. সাইয়্যেদুল এস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দো'আ - ১ বার)

তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দো'আ হলো সাইয়্যেদুল এস্তেগফার। যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে দিনে এটি পাঠ করবে এবং সন্ধ্যার পূর্বে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। একইভাবে রাতে পাঠ করে সকালে মারা গেলে সেও জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ عُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বী লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা খালাক্বতানী ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা- ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযু বিকা মিন শার্রি মা- ছানা‘তু, আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা ওয়া আবূউ বিযাম্বী ফাগফির লী ফইন্নাহূ লা- ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা- আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আর আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী আপনার সাথে কৃত অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর কায়েম আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আমার ওপর আপনার যে নিয়ামত রয়েছে তা স্বীকার করছি এবং আমার অপরাধও স্বীকার করছি। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন; কেননা আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
সনদ: সহীহ বুখারী (হাদিস: ৬৩০৬)।

৪. আকস্মিক বিপদ ও বিষাক্ত প্রাণীর ক্ষতি থেকে সুরক্ষার দো'আ (৩ বার)

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা- ইয়াদুর্রু মা‘アスমিヒー শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা- ফিস্ সামা-ই ওয়াহুওয়াস সামী‘উল ‘আলীম।
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
সনদ: আবু দাউদ (৫০৮৮), তিরমিযী (৩৩৮৮)। যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় এটি ৩ বার পাঠ করবে, কোনো দুর্ঘটনা বা হঠাৎ আসা বিপদ তার ক্ষতি করতে পারবে না।

৫. ঈমানের ওপর স্থির থাকা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের দো'আ (৩ বার)

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا
উচ্চারণ: রাদ্বীতু বিল্লা-হি রব্বাওঁ ওয়াবিল ইসলামি দীনাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামা নাবিয়্যা।
অর্থ: আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট আছি।
সনদ & ফজিলত: ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা এই পাঠকারীকে সন্তুষ্ট করা নিজের ওপর আবশ্যক করে নেন। (আবু দাউদ: ৫০৭২)।

৬. দুশ্চিন্তা, ঋণগ্রস্ততা ও অলসতা থেকে মুক্তির দো'আ (১ বার)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্ニー আ‘ঊযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল ‘আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন গলাবাতিদ্ দাইনি ওয়া ক্বাহরির রিজা-ল।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই চিন্তা-ভাবনা ও উৎকণ্ঠা থেকে, আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, আশ্রয় চাই ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে এবং আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের প্রাবল্য/উৎপীড়ন থেকে।
সনদ: সহীহ বুখারী (হাদিস: ২৮৯৩)। নিয়মিত আমলে দুশ্চিন্তা দূর হয় ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি মেলে।

৭. শারীরিক ও শারীরিক ইন্দ্রিয়ের নিরাপত্তা এবং সুস্থতার দো'আ (৩ বার)

اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বাদানী, আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী সাম‘ঈ, আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বশারী, লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার শরীর সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ! আমার শ্রবণশক্তি সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ! আমার দৃষ্টিশক্তি সুস্থ রাখুন। আপনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই।
সনদ: আবু দাউদ (৫০৯০)।

৮. মহান আল্লাহর অনন্য তাসবীহ (১০০ বার)

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী।
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি।
সনদ ও ফযীলত: সহীহ মুসলিম (হাদিস: ২৬৯২)। যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার এই তাসবীহ পাঠ করবে, সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহ হলেও তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং ক্বিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমলকারী আর কেউ হবে না।

সকাল-সন্ধ্যার যিকর ও আমল পালনের ১০টি বিশেষ আদব ও নিয়ম:

  1. ইখলাস বা নিষ্ঠা: কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিয়তে দো'আ পাঠ করা।
  2. অর্থ বুঝে পড়া: আরবি দো'আর সাথে সাথে মনের আকুতি দিয়ে তার বাংলা অর্থ অনুধাবন করা।
  3. ধীরস্থিরতা: তাড়াহুড়ো না করে ধীর-স্থির ও স্পষ্ট উচ্চারণে যিকর সম্পন্ন করা।
  4. নিম্ন স্বরে পড়া: উচ্চস্বরে বা চিৎকার না করে মনে মনে বা মৃদু আওয়াজে দো'আ পড়া উত্তম।
  5. পবিত্রতা অর্জন: ওযূ অবস্থায় কিবলামুখী হয়ে বসে আমল করা অধিক সওয়াবের কারণ।
  6. ধারাবাহিকতা রক্ষা: প্রতিদিনের নির্ধারিত আমল প্রতিদিন নিয়ম মেনে সম্পন্ন করার চেষ্টা করা।
  7. গণনা করা: সংখ্যাযুক্ত যিকরসমূহ (যেমন: ৩ বার বা ১০০ বার) আঙুলের গিঁটে গণনা করা সুন্নত।
  8. অন্য কাজে ব্যস্ত না হওয়া: যিকর চলাকালে অপ্রয়োজনীয় কথা ও মোবাইল ব্যবহারে বিরত থাকা।
  9. ক্বাজা আদায়: কোনো কারণে সকালে সময় না পেলে দুপুরের আগে বা বিকেলে তা পূর্ণ করে নেওয়া।
  10. পরিবারের সবাইকে উৎসাহ দেওয়া: ঘরের ছোট-বড় সবাইকে এ সকল মাসনূন আমলে অভ্যস্থ করে তোলা।

আলহামদুলিল্লাহ

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শেখানো প্রতিদিনের এই মহান মাসনূন সকাল-সন্ধ্যার দো'আ ও যিকরগুলো নিয়মিত আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

অন্যান্য ব্লগ পড়ুন