সুনানে আন-নাসায়ী
Sunan an-Nasa'i | মোট অধ্যায়: 51, মোট হাদিস: 5,765 টি
سنن النسائي
সংকলক : শাইখ ইমামুল হুজ্জাহ আবু 'আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমা'ঈল বিন ইব্রাহীম বিন মুগীরাহ আল বুখারী আল-জু'ফী। মোট হাদীস সংখ্যা : 5,765 টি।
হাদিস তালিকা
সুনানে আন-নাসায়ী : 5379
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
কুতায়বা ইবন সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবন আদম ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সুবিচারক লোক আল্লাহ তা'আলার নিকট তাঁর ডান হাতের দিকে নূরের মিম্বরের উপর উপবিষ্ট থাকবে। যারা তাদের বিচারকার্যে, পরিবারে ও দায়িত্বভুক্ত বিষয়ে ইনসাফ রক্ষা করে। রাবী মুহাম্মদ (রহঃ) তাঁর হাদীসে বলেনঃ আল্লাহর উভয় হাতই ডান হাত।
(5379, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5380
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
সুওয়ায়দ ইবন নসর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন সাত ব্যক্তিকে তাঁর ছায়ায় স্থান দান করবেন, যে দিন আল্লাহর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না। সুবিচারক শাসক; ঐ যুবক যে আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদতে বর্ধিত হয়েছে; ঐ ব্যক্তি যে নিভৃতে আল্লাহকে স্মরণ করে অশ্রু বিসর্জন করে; ঐ ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে; ঐ দুই ব্যক্তি, যারা আল্লাহর জন্য একে অন্যকে ভালবাসে; ঐ ব্যক্তি, যাকে কোন সম্ভ্রান্ত রূপসী নারী নিজের দিকে ডাকে আর সে বলে, আমি আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করি; আর ঐ ব্যক্তি, যে সাদকা করে এমন গোপনে যে, তার বাম হাত জানে না, তার ডান হাত কী করেছে।
(5380, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5381
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন শাসক তার আদেশ জারি করে আর তাতে সে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছার চেষ্টা করে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম হয়, তার জন্য দুইটি পুণ্য রয়েছে। আর যদি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করার পরও তার ভুল হয়ে যায়, তবুও তার জন্য একটি পুণ্য রয়েছে।
(5381, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5382
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট আশআর গোত্রের কিছু লোক এসে বললো, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে চল, আমাদের প্রয়োজন রয়েছে। আমি তাদের সাথে গেলাম। তারা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার কোন কাজে আমাদের সাহায্য গ্রহণ করুন। আবু মূসা (রাঃ) বলেন, তাদের এই আবদার শুনে আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি জানি না তারা আপনার নিকট এই উদ্দেশ্যে আগমন করেছে। তা হলে আমি তাদের সাথে আসতাম না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আপনি সত্যই বলেছেন, আর তিনি আমার ওযর গ্রহণ করলেন এবং তাদেরকে বললেনঃ যে ব্যক্তি কোন পদের প্রার্থী হয়, আমরা তাকে কাজে নিযুক্ত করি না।
(5382, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5383
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... উসায়দ ইবন হুযায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক আনসার ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আপনি আমাকে কোন কাজে নিযুক্ত করেন না, অথচ আপনি অমুক ব্যক্তিকে কাজে নিযুক্ত করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার পরে তোমরা দেখতে পাবে যে, তোমাদের উপর অন্যদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে, যতক্ষণ না তোমরা আমার সাথে হাওযে কাওসারে মিলিত হবে।
(5383, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5384
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
মুজাহিদ ইবন মূসা ও আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নেতৃত্ব প্রার্থনা করবে না। কেননা যদি তুমি তা চেয়ে নাও, তবে তোমাকে তার উপর ছেড়ে দেওয়া হবে। আর যদি তা তোমাকে চাওয়া ছাড়াই দেওয়া হয়, তবে আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাকে সাহায্য করা হবে।
(5384, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5385
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
মুহাম্মদ ইবন আদম ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তোমরা শাসক হওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করে থাক। অথচ কিয়ামতের দিন তা লজ্জা এবং আফসোসের কারণ হবে। এটা উত্তম স্তন্যদায়িনী কিন্তু সেই সংগে নির্মম দুধ বন্ধকারিণী।
(5385, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5386
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
হাসান ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তামীম গোত্রের একদল আরোহী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কা'কা' ইবন মা'বাদকে শাসক নিযুক্ত করুন; উমর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আকরা ইবন হাবিসকে নিযুক্ত করুন। পরে তাঁরা বাদানুবাদে লিপ্ত হলে তাদের শব্দ উঁচু হয়ে গেল। তখন এই আয়াত নাযিল হলোঃ হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের সামনে তোমরা কোন বিষয়ে অগ্রণী হয়ো না। ..... যদি তারা আপনার বের হওয়া পর্যন্ত সবর করতো, তবে তাদের জন্য উত্তম হতো। (হুজুরাতঃ ১–৫)।
(5386, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5387
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
কুতায়বা (রহঃ) ... শুরায়হ্ ইবন হানী (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। তখন তিনি শুনতে পেলেন, লোকে হানীকে আবুল হাকাম বলে ডাকছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা হাকাম অর্থাৎ বিচারক, ফয়সালা দান তারই এখতিয়ারে। কিন্তু লোক তোমাকে আবুল হাকাম বলে কেন? তিনি বললেনঃ আমার গোত্রের লোক যখন কোন ব্যাপারে কলহ করে, তখন তারা আমার নিকট বিচারপ্রার্থী হয়; আর আমি যে রায় দেই, তারা তা মেনে নেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরচেয়ে ভাল কাজ আর হতে পারে? আচ্ছা তোমার কয়টি সন্তান? তিনি বললেনঃ আমার ছেলে-শুরায়হ, আবদুল্লাহ এবং মুসলিম। তিনি বললেনঃ এদের মধ্যে বড় কে? হানী বললেনঃ শুরায়হ্! তিনি বললেনঃ তবে তুমি আবূ শুরায়হ্! পরে তিনি তাঁর জন্য এবং তাঁর ছেলেদের জন্য দু'আ করলেন।
(5387, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5388
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে এমন এক কথার দ্বারা রক্ষা করেছেন, যা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শ্রবণ করেছি। ইরানের বাদশাহ কিসরার মৃত্যু হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ এখন তারা কাকে শাসক নিযুক্ত করেছে? তারা বললোঃ তার কন্যাকে। তিনি বললেনঃ যে জাতি নিজেদের শাসক একজন নারীকে সাব্যস্ত করে নেয়, তারা কখনো সফল হয় না।
(5388, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5389
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
মুহাম্মদ ইবন হাশিম (রহঃ) ... ওয়ালীদ থেকে, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি যুহরী থেকে তিনি সুলায়মান ইবন ইয়াসার থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রহঃ) থেকে এবং তিনি ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে। তিনি কুরবানীর দিন ভোরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে তাঁর সহযাত্রী ছিলেন। এ সময় খাসআম গোত্রের এক নারী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর নির্ধারিত ফরয হজ্জ আমার পিতার উপর, তাঁর বার্ধক্যে আরোপিত হয়েছে। অথচ তিনি শায়িত অবস্থা ব্যতীত সওয়ারও হতে পারেন না; এমতাবস্থায় আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাঁর পক্ষ হতে তুমি হজ্জ কর। কেননা তার কোন দেনা থাকলে তা তো তুমিই আদায় করতে।
(5389, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5390
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... ওয়ালীদ হতে, তিনি আওযাঈ হতে, তিনি ইবন শিহাব হতে, অন্য সনদে মাহমূদ ইবন খালিদ উমর হতে, তিনি আওযাঈ হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি সুলায়মান ইবন ইয়াসার হতে এবং তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে। খাস'আম গোত্রের এক নারী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলো, আর তখন ফযল তাঁর পিছনে সহযাত্রী ছিল। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর নির্ধারিত ফরয হজ্জ আমার পিতার উপর আরোপিত হয়েছে, অথচ তিনি এত বৃদ্ধ যে, শায়িত অবস্থা ব্যতীত সওয়ার হতে পারেন না। আমি তাঁর পক্ষ হতে হজ্জ করলে, তা আদায় হবে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
(5390, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5391
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে আরোহী ছিলেন, এমন সময় খাসআম গোত্রের এক নারী মাসআলা জিজ্ঞাসার উদ্দেশ্যে তাঁর নিকট উপস্থিত হলো। তখন ফযল (রাঃ) ঐ নারীর প্রতি দৃষ্টি দিলেন, আর ঐ নারীও তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযলের চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। তখন ঐ নারী বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্ পাকের নির্ধারিত ফরয হজ্জ আমার পিতার উপর ঐ সময় ফরয হলো যখন আমার পিতা বৃদ্ধ, এমনকি তিনি উঠে বসতেও পারেন না। আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আর এটি বিদায় হজ্জের ঘটনা।
(5391, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5392
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
আবূ দাউদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, খাস'আম গোত্রের এক মহিলা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পিতা অতি বৃদ্ধ, তিনি উটের ওপর ঠিক হয়ে বসতেও পারেন না, এমতাবস্থায় তাঁর ওপর আল্লাহর ফরয হজ্জ আরোপিত হয়েছে, আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করতে পারি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হ্যাঁ। ফযল ঐ মহিলার দিকে তাকাতে লাগালেন আর সে ছিল এক সুন্দরী মহিলা। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযলকে ধরে তার চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিলেন।
(5392, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5393
Shadh
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
মুজাহিদ ইবন মূসা (রহঃ) ... হুশায়ম ইয়াহইয়া ইবন আবু ইসহাক হতে, তিনি সুলায়মান ইবন ইয়াসার হতে এবং তিনি আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ আমার পিতার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে কিন্তু তিনি বার্ধক্যে উপনীত, এমনকি উটে বসতেও পারেন না, যদি আমি তাকে বেঁধে দেই তবে ভয় হয়, হয়তো তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হবেন। আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হজ্জ করবো? তিনি বললেনঃ দেখ, যদি তার উপর ঋণ থাকতো আর তুমি তা আদায় করে দিতে, তবে তা আদায় হতো কিনা? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তবে তুমি তার পক্ষ হতে হজ্জ আদায় কর (কেননা এটাও আল্লাহর ঋণ)।
(5393, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5394
Shadh
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ইবন আবু ইসহাক হতে, তিনি সুলায়মান ইবন ইয়াসার হতে এবং তিনি ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সওয়ার ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মাতা নিতান্ত বৃদ্ধা। তাকে উটে বসালেও তিনি বসতে পারবেন না আর যদি তাঁকে বেঁধে দেই, তবে ভয় হয় আমি না তাকে মেরে ফেলি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দেখ, যদি তোমার মাতার উপর ঋণ থাকলে, তবে কি তুমি তা আদায় করতে? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ অতএব তার পক্ষ হতে তুমি হজ্জ কর।
(5394, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5395
Shadh
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
আবু দাউদ (রহঃ) ... শুবা ইয়াহইয়া ইবন আবু ইসহাক হতে, তিনি সুলায়মান ইবন ইয়াসার হতে এবং তিনি ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে। এক ব্যক্তি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা অত্যধিক বৃদ্ধ, তিনি হজ্জ করতে অক্ষম। আমি যদি তাকে বাহনের উপর বসিয়ে দেই, তবে তিনি ঠিকভাবে বসতে পারবেন না। আমি কি তার পক্ষে হজ্জ আদায় করতে পারি? তিনি বলেনঃ তুমি তোমার পিতার পক্ষে হজ্জ করতে পার।
(5395, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5396
Sahih Isnaad
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
মুহাম্মদ ইবন মা'মার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আমার পিতা অধিক বৃদ্ধ ব্যক্তি, অতএব আমি কি তার পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, বল তো, যদি তার উপর ঋণ থাকতো এবং তুমি তা পরিশোধ করে দিতে, তবে তা কি তার পক্ষ হতে আদায় হতো না?
(5396, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5397
Sahih Isnaad Mauquf
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
মুহাম্মদ ইবন আ'লা (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আবদুল্লাহ্ (ইবন মাসউদ) (রাঃ)-এর নিকট অনেক লোক আসলো। তখন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বললেনঃ আমাদের উপর এমন এক সময় অতিবাহিত হয়েছে, যখন আমরা কোন বিচার করতাম না, আর ভাগ্যে আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের রেখেছেন যে, আমরা এই পর্যায়ে পৌছাব যেমন তোমরা প্রত্যক্ষ করছে। এখন হতে তোমাদের কারো যদি কখনও কোন মীমাংসা করার প্রয়োজন হয়, তখন সে আল্লাহ্ পাকের কিতাবানুসারে মীমাংসা করবে। যদি এমন কোন ব্যাপারে মীমাংসা করতে হয়, যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তখন সে তার নবী এ ব্যাপারে যে মীমাংসা করেছেন, তা দ্বারা মীমাংসা করবে। আর যদি তার নিকট এমন কোন ব্যাপারে উপস্থিত হয়, যা আল্লাহর কিতাবেও নেই এবং এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফয়সালাও নেই, তখন সে যেন নেককারদের মীমাংসানুযায়ী মীমাংসা করে। যদি তার নিকট এমন কোন ব্যাপারে উপস্থিত হয়, যা আল্লাহর কিতাবেও নেই, তার নবী যা মীমাংসা দিয়েছেন তাতেও নেই এবং নোরদের মীমাংসায়ও এর দৃষ্টান্ত নেই, তখন সে ব্যাপারে স্বীয় জ্ঞানের দ্বারা মীমাংসা করবে এবং সে যেন এ কথা না বলে যে, নিশ্চয়ই আমি ভয় করি, আমি ভয় করি। কেননা হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দুয়ের মধ্যে কোন কোন বিষয় আছে, যা সন্দেহযুক্ত। অতএব এমন কাজ পরিত্যাগ কর, যা সন্দেহযুক্ত এবং ঐ কাজ কর, যাতে সন্দেহ নেই।
(5397, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
সুনানে আন-নাসায়ী : 5398
Sahih Lighairihi
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন মায়মূন (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের উপর এমন এক সময় অতিবাহিত হয়েছে, যখন আমরা কোন ফয়সালা বা মীমাংসা করতাম না; আর আমরা তার উপযুক্তও ছিলাম না, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের ভাগ্যে রেখেছেন এবং আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছলাম, যা তোমরা দেখছে। অতএব এরপর যদি কারও কোন ফয়সালা বা মীমাংসা করতে হয়, তবে সে যেন আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তার মীমাংসা করে; যদি তার নিকট এমন ব্যাপার উপস্থিত হয়, যা আল্লাহর কিতাবে নেই; তবে সে যেন এর মীমাংসা ঐরূপ করে, যেমন তার নবী মীমাংসা করেছেন। আর যদি তার নিকট এমন বিষয় উপস্থিত হয়, যা আল্লাহর কিতাবেও নেই এবং তাঁর নবী এর মীমাংসা করেন নি; তবে সেভাবে সে মীমাংসা করবে যেভাবে নেককারগণ মীমাংসা করেছেন। আর তোমাদের কেউ যেন একথা না বলে যে, আমি ভয় করি, আমি ভয় করি। কেননা হালাল স্পষ্ট, আর হারামও স্পষ্ট, আর এদুয়ের মধ্যে রয়েছে। সন্দেহজনক বিষয়সমূহ। অতএব তুমি সন্দেহজনক বিষয় পরিত্যাগ কর, আর যাতে সন্দেহ নেই, তা কর।
(5398, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)