জামে' আত-তিরমিযী
Jami` at-Tirmidhi | মোট অধ্যায়: 49, মোট হাদিস: 3,998 টি
جامع الترمذي
সংকলক : শাইখ ইমামুল হুজ্জাহ আবু 'আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমা'ঈল বিন ইব্রাহীম বিন মুগীরাহ আল বুখারী আল-জু'ফী। মোট হাদীস সংখ্যা : 3,998 টি।
হাদিস তালিকা
জামে' আত-তিরমিযী : 1386
Daif
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। খিশফ ইবনু মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভুলবশত হত্যার দিয়াত নিম্নোক্ত বয়সের এক শত উট নির্ধারণ করেছেনঃ দ্বিতীয় বছরে পদার্পণকারী বিশটি উষ্ট্রী ও বিশটি উট, তৃতীয় বছরে পদার্পণকারী বিশটি উষ্ট্রী, চতুর্থ বছরে পদার্পণকারী বিশটি উষ্ট্রী এবং পঞ্চম বছরে পদার্পণকারী বিশটি উষ্ট্রী। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৬৩১) এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হিশাম রিফাঈ-ইবনু আবূ যায়িদা ও আবূ খালিদ আল-আহমার হতে তারা উভয়ে আল-হাজ্জাজ ইবনু আরতাত সুত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, আমরা শুধু উল্লেখিত সনদ সূত্রেই আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের হাদীসটি মারফু হিসেবে পেয়েছি। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে মাওকৃফ হিসেবেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। একদল আলিম এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাকেরও এই মত। দিয়াতের অর্থ তিন বছরে তিন কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য। প্রত্যেক বছর মোট অংশের এক-তৃতীয়াংশ করে পরিশোধ করতে হবে। এ ব্যাপারে আলিমদের মাঝে ঐকমত্য আছে। তারা আরো বলেছেন, ভুল বশতঃ হত্যার দায়ে আকিলার উপর দিয়াত পরিশোধের দায়িত্ব চেপে যায়। তাদের কেউ কেউ বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির পিতৃকূলের আত্মীয়কে আকিলা বলে। ইমাম মালিক ও শাফিঈর এই মত। অপর দল বলেছেন, দিয়াত শুধু পুরুষদের উপর ধার্য হয়, স্ত্রীলোক ও বালকদের উপর ধার্য হয় না। তাদের প্রত্যেকে এক দীনারের এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ দায় বহন করবে। কেউ কেউ অর্ধ দীনারের কথা বলেছেন। এভাবে দিয়াতের সম্পূর্ণ অর্থ সংগ্রহ হয়ে গেলে তো ভাল, অন্যথায় দেখতে হবে তাদের নিকটাত্মীয় গোত্র আছে কি-না, থাকলে অবশিষ্ট দিয়াত তাদের উপর চাপানো হবে।
(1386, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1387
Hasan
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আমর ইবনু শুআইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে কোন ব্যক্তিকে খুন করবে তাকে নিহতের ওয়ারিসগণের নিকট সোপর্দ করা হবে। তারা চাইলে তাকে হত্যাও করতে পারে অথবা রক্তপণও আদায় করতে পারে। রক্তপণের পরিমাণ তিন বছরের ত্রিশটি উস্ত্রী, চার বছরের ত্রিশটি উট এবং চল্লিশটি গাভিন উস্ত্রী হতে হবে। দুই পক্ষের মধ্যে কোনরকম সমাধান হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। রক্তপণকে কঠোর করার জন্য এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৬২৬) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন।
(1387, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1388
Daif
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়াতের পরিমাণ (মুদ্রায়) বার হাজার দিরহাম নির্ধারণ করেছেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ
(1388, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1389
Daif
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান আল-মাখযুমী-সুফিয়ান ইবনু উআইনা হতে, তিনি আমর ইবনু দীনার হতে, তিনি ইকরিমা (রহঃ) এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এতে তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ করেননি। - যঈফ, প্রাগুক্ত ইবনু উআইনার হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে আরো অনেক তথ্য আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ব্যতীত কেউ এ হাদীসটি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। একদল আলিম এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাকের এই মত (দিয়াতের পরিমাণ বার হাজার দিরহাম)। অপর একদল আলিম বলেছেন, দিয়াতের পরিমাণ দশ হাজার দিরহাম। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসীদের এই মত। ইমাম শাফিঈ বলেন, উটের মাধ্যমেই দিয়াত আদায় করতে হবে এবং এর পরিমাণ হবে এক শত উট অথবা তার মূল্য যা হয়।
(1389, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1390
Hasan Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মূযিহার (হাড় দেখা যায় এরূপ জখমের) রক্তপণের পরিমাণ হবে পাঁচটি করে উট। হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬৫৫) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক আলিমগণ আমল করেছেন। এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। তারা বলেন, মূযিহার (হাড় বের হয়ে যাওয়া জখমের) রক্তপণের পরিমাণ হবে পাঁচটি করে উট।
(1390, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1391
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হাত ও পায়ের আঙ্গুলসমূহের একই পরিমাণ রক্তপণ ধার্য হবে। একেকটি আঙ্গুলের জন্য রক্তপণের পরিমাণ হবে দশটি করে উট। সহীহ, ইরওয়া (২২৭১) আবূ মূসা ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই সূত্রে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক একদল আলিম আমল করেছেন। একইরকম কথা বলেছেন (প্রতিটি আঙ্গুলের রক্তপণ দশটি উট) সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও
(1391, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1392
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এটা ও এটা অর্থাৎ কনিষ্ঠা ও বৃদ্ধা উভয় আঙ্গুলের রক্তপণের পরিমাণ এক সমান। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬৫২), বুখারী এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
(1392, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1393
Daif
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবূস সাফার (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, এক কুরাইশী এক আনসারীর দাত ভেঙ্গে ফেলে। সে মুআবিয়া (রাঃ)-এর আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। সে মুআবিয়া (রাঃ)-কে বলল, হে আমীরুল মু'মিনীন! এই ব্যক্তি আমার দাত ভেঙ্গেছে। মুআবিয়া (রাঃ) বলেন, আমরা তোমাকে সন্তুষ্ট করব। অপর (অভিযুক্ত) ব্যক্তি মুআবিয়া (রাঃ)-কে পীড়াপীড়ি করতে থাকলো এবং বাদীকে বিনিময় গ্রহণে বাধ্য করাতে চাইল কিন্তু তিনি তাকে রাজি করাতে পারলেন না। মুআবিয়া (রাঃ) তাকে বললেন, তোমার সাথীকে তোমার নিকট ছেড়ে দিলাম (তুমি তাকে মাফ করতে পার আবার কিসাসও গ্রহণ করতে পার)। এ সময় আবূদ দারদা (রাঃ) তার নিকটে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যা আমি স্বয়ং কানে শুনেছি এবং আমার অন্তর মনে রেখেছেঃ “কোন ব্যক্তির শরীরের কোন অংশ (অন্যের দ্বারা) আহত হলে, তারপর সে (অভিযুক্তকে) মাফ করে দিলে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা তার মর্যাদা আরো একধাপ বাড়িয়ে দেন এবং তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন"। আনসারী ব্যক্তিটি তাকে প্রশ্ন করল, আপনি কি তা সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে শুনেছেন? তিনি বললেন, আমার দুই কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তর তা মনে রেখেছে। আনসারী বললেন, তাহলে আমি তাকে মাফ করলাম। মুআবিয়া (রাঃ) বললেন, আমি অবশ্যই তোমাকে বঞ্চিত করব না। তারপর তিনি তাকে কিছু মাল দেওয়ার নির্দেশ দেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৬৯৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। উল্লেখিত সূত্রেই শুধু আমরা তা জেনেছি। আবূস সাফার আবূদ দারদার নিকটে কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবূস সাফারের নাম সাঈদ, পিতা আহমাদ, তাকে ইবনু মুহাম্মাদ আস-সাওরীও বলা হয়।
(1393, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1394
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একটি বালিকা গহনা পরে বাড়ীর বাইরে গেলে একজন ইয়াহুদী তাকে ধরে নিয়ে পাথর দ্বারা আঘাত করে তার মাথা থেতলিয়ে দেয় এবং তার গহনা ছিনিয়ে নেয়। তাকে মুমূর্যু অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আনা হয়। সে মুহুর্তেও তার মধ্যে জীবনের স্পন্দন অবশিষ্ট ছিল। তিনি প্রশ্ন করেনঃ কে তোমাকে হত্যা করেছে, অমুক লোক কি? সে মাথার ইশারায় বলল, না। তিনি আবার প্রশ্ন করেনঃ তাহলে কি অমুক লোক? এভাবে তিনি নাম উচ্চারণ করতে করতে বললেনঃ অমুক ইয়াহুদী? সে মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, তাকে ধরে আনা হলে সে ঘটনার স্বীকারোক্তি করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে তার মাথা দুই পাথরের মাঝে রেখে থেতলিয়ে দেওয়া হল। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬৬৫, ২৬৬৬), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুসারে ইমাম আহমাদ ও ইসহাক অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কিছু আলিম বলেছেন, তরবারির আঘাতেই কিসাস কার্যকর করতে হবে।
(1394, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1395
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট পৃথিবী ধ্বংস হওয়াটা অধিকতর সহজ ব্যাপার একজন মুসলিম খুন হওয়ার পরিবর্তে। সহীহ, গায়াতুল মারাম (৪৩৯) মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফর হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি ইয়ালা হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ হাদীসটি এই সূত্রে মারফুরূপে বর্ণিত হয়নি। ইবনু আবূ আদীর হাদীসের তুলনায় এটিকেই আবূ ঈসা অধিকতর সহীহ বলেছেন। সা'দ, ইবনু আব্বাস, আবূ সাইদ, আবূ হুরাইরা, উকবা ইবনু আমির ও বুরাইদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে আরো কয়েকটি সূত্রে মাওকুফভাবে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে (মূল গ্রন্থে দ্র.)। সূত্রগুলি - ১. ইবনু আবী আদী শুবা হতে, তিনি ইয়ালা ইবনু আতা হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। ২. মুহাম্মাদ ইবনু জাফর আরও অনেকে শুবা হতে, তিনি ইয়ালা ইবনু আতা হতে। ৩. সুফিয়ান সাওরী ইয়ালা ইবনু আতা হতে মওকুফ হিসেবে। শেষ সূত্রটি মারফু হাদীসের তুলনায় অধিকতর সহীহ।
(1395, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1396
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে বান্দাদের মধ্যে সবার আগে খুনের ফায়সালা করা হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬১৫), নাসা-ঈ আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি আমাশ (রাহঃ) হতে একাধিক সূত্রে মারফুভাবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু কয়েকজন বর্ণনাকারী তার সূত্রে এটা মাওকুফভাবেও বর্ণনা করেছেন।
(1396, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1397
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে সবার আগে বান্দাদের খুনের ফায়সালা সম্পাদন করা হবে। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস
(1397, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1398
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবূল হাকাম আল-বাজালী (রহঃ) বলেন, আমি আবূ সাঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরা (রাঃ)-কে বর্ণনা করতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আসমান-জমিনের মধ্যে বসবাসকারী সকলে একত্রে মিলিত হয়েও যদি একজন মু'মিনকে মেরে ফেলার কাজে শরীক থাকে তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাদের সকলকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। সহীহ, রাওযুন-নায়ীর (৯২৫), তা’লীকুর রাগীব (৩/২০২) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন। আবূল হাকাম আল-বাজালীর নাম আবদুর রাহমান, পিতা আবূ নুম আল-কুফী।
(1398, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1399
Daif
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। সুরাকা ইবনু মালিক ইবনু জুশুম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত থেকে দেখেছি যে, তিনি বাবাকে হত্যার অপরাধে ছেলের উপর কিসাস (মৃত্যুদণ্ড) কার্যকর করতেন, কিন্তু ছেলেকে হত্যার অপরাধে বাবার উপর কিসাস কার্যকর করতেন না। যঈফ, ইরওয়া (৭/২৭২) আবূ ঈসা বলেনঃ শুধু উল্লেখিত সনদ সূত্রেই এ হাদীসটি আমরা জেনেছি। এই হাদীসের সনদ সহীহ নয়। ইসমাঈল ইবনু আইয়্যাশ (রহঃ) এই হাদীস মুসান্না ইবনুস সাব্বাহ হতে বর্ণনা করেছেন। মুসান্না ইবনুস সাব্বাহ হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল প্রমাণিত হয়েছেন। এ হাদীসটি আবূ শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে-উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট হতে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। আমর ইবনু শুআইব (রাহঃ) হতে এ হাদীস মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত আছে। এ হাদীসের সনদে যথেষ্ট গরমিল (ইযতিরাব) আছে। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল দণ্ড হিসেবে বাবাকে হত্যা করা হবে না। বাবা যদি তার ছেলের উপর যেনার অপবাদ (কাযাফ) আরোপ করে তবে তাকে অপবাদের শাস্তিও দেয়া হবে না।
(1399, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1400
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ছেলেকে খুনের অপরাধে বাবাকে হত্যা করা যাবে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ
(1400, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1401
Hasan
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদের ভিতর হদ কার্যকর করা যাবে না এবং ছেলেকে খুনের দায়ে বাবাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানকরা যাবে না। হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৫৯৯, ২৬৬১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি শুধু ইসমাঈল ইবনু মুসলিমের সূত্রেই মারফুভাবে বর্ণিত হয়েছে বলে আমরা জানি। তিনি মক্কার অধিবাসী। তার স্মরণশক্তি সম্পর্কে কিছু সংখ্যক হাদীস বিশারদ সমালোচনা করেছেন।
(1401, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1402
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিম ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত আর কোন ইলাহ্ (প্রভু) নেই এবং আমি (মুহাম্মাদ) আল্লাহর রাসূল, তার রক্ত (তাকে খুন করা) বৈধ নয়, তিনটি অপরাধের মধ্যে কোন একটি ব্যতীতঃ বিবাহিত হয়েও যিনা করলে, কোন লোককে খুন করলে তার কিসাস হিসেবে এবং নিজের ধর্ম ছেড়ে দিয়ে ইসলামী জামাআত হতে বিচ্ছিন্ন হলে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৩৪), নাসা-ঈ উসমান, আইশা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
(1402, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1403
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! যে লোক সন্ধি-চুক্তি করে আল্লাহ ও তার রাসূলের যিম্মা (নিরাপত্তা) নিয়েছে তাকে যে লোক খুন করল সে আল্লাহ্ তা'আলার যিম্মাদারীকে ছিন্ন করল। সে জান্নাতের সুগন্ধটুকুও লাভ করবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ সত্তর বছরের দূরত্ব (পথ) হতেও পাওয়া যায়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬৮৭) আবূ বাকরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।
(1403, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1404
Daif Isnaad
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমির গোত্রের দুই ব্যক্তিকে মুসলিমদের মত একই রকম দিয়াত প্রদান করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের নিরাপত্তা-চুক্তি ছিল। - সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধুমাত্র উল্লেখিত সনদ সূত্রেই আমরা এ হাদীসটি জেনেছি। আবূ সা’দ আল-বাক্কালের নাম সাঈদ, পিতা আল-মারযুবান
(1404, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1405
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, যখন আল্লাহ তা'আলা তার রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) মক্কা-বিজয় দান করলেন তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকদের সামনে দাড়িয়ে আল্লাহ্ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেনঃ যার আপন কেউ নিহত হয়েছে সে দুটি বিকল্পের মধ্যে একটি গ্রহণ করতে পারে। সে চাইলে খুনীকে ক্ষমাও করতে পারে অথবা তাকে হত্যাও করতে পারে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ
(1405, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)