জামে' আত-তিরমিযী
Jami` at-Tirmidhi | মোট অধ্যায়: 49, মোট হাদিস: 3,998 টি
جامع الترمذي
সংকলক : শাইখ ইমামুল হুজ্জাহ আবু 'আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমা'ঈল বিন ইব্রাহীম বিন মুগীরাহ আল বুখারী আল-জু'ফী। মোট হাদীস সংখ্যা : 3,998 টি।
হাদিস তালিকা
জামে' আত-তিরমিযী : 1423
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন প্রকার লোক হতে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে (শাস্তি থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে) ঘুমিয়ে থাকা লোক জাগ্রত না হওয়া পর্যন্ত; শিশু বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং নিস্ক্রিয়বুদ্ধিসম্পন্ন (অজ্ঞান) লোকের জ্ঞান না আসা পর্যন্ত। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২০৪১, ২০৪২) আইশা (রাঃ)-এর নিকট হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদ সূত্রে হাসান গারীব বলেছেন। আলী (রাঃ) হতে আরো একাধিক সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে। কোন কোন বর্ণনায় আছেঃ “ওয়া আনিল গুলামি হাত্তা ইয়াহতালিমা” (বালক প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত)। আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)-এর নিকট হতে হাসান বাসরী (রাহঃ) সরাসরি হাদীস শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এ হাদীস আতা ইবনু সাইব-আবূ যাবিয়ান হতে, তিনি আলী (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ সূত্রেও বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি আমাশ-আবূ যাবিয়ান হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে, তিনি আলী (রাঃ)-এর সূত্রে মাওকৃফরূপে বর্ণনা করেছেন, মারফুভাবে বর্ণনা করেননি। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, হাসান বাসরী (রাহঃ) আলী (রাঃ)-কে জীবদ্দশায় পেয়েছেন কিন্তু তার কাছে কোন কিছু শুনতে পেয়েছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবূ যাবিয়ানের নাম হলো হুসাইন, বাবার নাম জুনদাব।
(1423, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1425
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক কোন মু'মিন ব্যক্তির দুনিয়াবী অসুবিধাগুলোর কোন একটি অসুবিধা দূর করে দেয়, তার পরকালের অসুবিধাগুলোর মধ্যে একটি অসুবিধা আল্লাহ তা'আলা দূর করে দিবেন। কোন মুসলিম ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি যে লোক গোপন রাখে, তার দোষ-ত্রুটি আল্লাহ তা'আলা দুনিয়া ও আখিরাতে গোপন রাখেন। যে পর্যন্ত বান্দাহ তার ভাইকে সাহায্য করতে থাকে সে পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলাও তাকে সাহায্য করতে থাকেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২৫), মুসলিম উকবা ইবনু আমির ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, একাধিক বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর এ হাদীসটি আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে আবূ আওয়ানার মতই বর্ণনা করেছেন। আসবাত ইবনু মুহাম্মাদ আমাশ হতে, বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আবূ সালিহ এর সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি আবু হুরাইরা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ধারণা করা হয় এই বর্ণনাটি প্রথম বর্ণনার তুলনায় অধিক সহীহ। উবাইদ ইবনু আসবাত এটা বর্ণনা করেছেন তার বাবা হতে, তিনি আমাশ হতে।
(1425, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1426
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। সালিম (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিম একজন অন্যজনের ভাই। সে তার উপর কোনরকম যুলুম-অত্যাচার করতে পারে না এবং শক্রর কাছেও তাকে সমর্পণ করতে পারে না বা তাকে অসহায়ভাবে ছেড়ে দিতে পারে না। কোন লোক তার ভাইয়ের প্রয়োজন মিটানোর কাজে যে পর্যন্ত লেগে থাকে, আল্লাহ তা'আল্লাও তার প্রয়োজন মিটিয়ে দেন। কোন মুসলিম ব্যক্তির কোন অসুবিধা যে লোক অপসারণ করে দেয়, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত দিবসে তার অসুবিধাগুলোর মধ্য হতে একটি অসুবিধা দূর করে দিবেন। কোন মুসলিম ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি যে লোক গোপন করে রাখে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত দিবসে তার দোষ-ত্রুটি গোপন করে রাখবেন। সহীহ, সহীহাহ (৫০৪), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা ইবনু উমারের হাদীস হিসেবে হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
(1426, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1427
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মায়িয ইবনু মালিক (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার সম্পর্কে আমি যা কিছু জেনেছি তা কি সত্য? তিনি বললেন, আপনি আমার ব্যাপারে কি জেনেছেন? তিনি বললেনঃ আমি জানতে পারলাম, তুমি অমুকের বাদীর উপর পতিত হয়েছ (যিনায় লিপ্ত হয়েছ)। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর তিনি চারবার স্বীকারোক্তি করেন। তিনি তার ব্যাপারে রায় দিলে সে মোতাবিক তাকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করা হয়। সহীহ, ইরওয়া (৭/৩৫৫), মুসলিম সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি সাঈদ ইবনু জুবাইরের সূত্রে সিমাক ইবনু হারব মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ করেননি।
(1427, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1428
Hasan Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মায়িয আল-আসলামী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন, এই লোক (মাইয) যিনা করেছে। তিনি তার কাছ থেকে মুখ সরিয়ে নিলেন। মায়িয (রাঃ)-ও অপর দিকে ঘুরে এসে বললেন, এই লোক যিনা করেছে। তিনি আবারও তার দিক থেকে মুখ সরিয়ে নেন। মায়িয (রাঃ)-ও পুনরায় অপর দিক হতে ঘুরে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই লোক যিনা করেছে। তিনি চতুর্থবারে তার ব্যাপারে হুকুম করলেন এবং সে মোতাবিক তাকে হাররার প্রান্তরে নেওয়া হয় এবং তার উপর পাথর ছুড়ে মারা হয়। সে পাথরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পালিয়ে এক লোককে অতিক্রম করে যাচ্ছিল। ঐ লোকটির হাতে উটের চোয়ালের হাড় ছিল। সে তাকে তা দিয়ে আঘাত করে এবং অন্যান্য লোকজনও আঘাত করে। ফলে লোকটি মৃত্যুবরণ করে। লোকেরা এ ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বর্ণনা করে যে, তিনি পাথরের আঘাতে এবং প্রত্যক্ষ মৃত্যুর স্পর্শ পেয়ে ভয়ে পালাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাকে ছেড়ে দিলে না কেন? হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৫৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে আরো কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আবূ সালামা (রাহঃ) হতে জাবির (রাঃ)-এর সূত্রে একইরকম হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
(1428, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1429
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম বংশের একজন লোক এসে ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি করে। তিনি তার সামনে থেকে মুখ সরিয়ে নিলেন। সে পুনরায় তার পাপ কর্মের স্বীকারোক্তি করে। পুনরায় তিনি তার কাছ থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। এমনিভাবে সে তার নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য প্রদান করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি পাগল নাকি? সে বলল, না। তিনি প্রশ্ন করেনঃ তুমি কি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি তার ব্যাপারে রায় দিলেন এবং সে মোতাবিক তাকে ঈদগাহের ময়দানে নিয়ে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করা হল। পাথরের আঘাতে জর্জরিত হয়ে সে পালাতে থাকলে তাকে আটক করে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করা হয়। তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাল কথা বলেছেন (তার প্রশংসা করেছেন)। কিন্তু তিনি নিজে তার জানাযার নামায আদায় করেননি। সহীহ, ইরওয়া (৭/৩৫৩), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুসারে একদল অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তারা বলেছেন, যিনাকারী ব্যক্তি নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য প্রদান করলে (স্বীকারোক্তি দিলে) তার উপর যিনার শাস্তি কার্যকর হবে। এই মত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও। অন্য আরেক দল অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, যিনার অপরাধ একবার স্বীকার করলেই শাস্তি কার্যকর হবে। এই মত প্রকাশ করেছেন ইমাম মালিক ও শাফিঈ। শেষোক্ত দুইজন ইমাম আবূ হুরাইরা ও যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটি নিজেদের মতের অনুকূলে দলীল হিসাবে নিয়েছেন। হাদীসটি এইঃ “দু'জন লোক নিজেদের মধ্যকার ঝগড়া সমাধানের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তা উপস্থাপন করে। তাদের মধ্যে একজন বলে, হে আল্লাহর রাসূল! এই লোকটির স্ত্রীর সাথে আমার ছেলে যিনা করেছে...... (দীর্ঘ হাদীস)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উনাইস! তার স্ত্রীর নিকট যাও। সে যিনার পাপকে স্বীকার করলে তবে তাকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) কর”। এ হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একথা বলেননি যে, সে চারবার স্বীকারোক্তি করলে তাকে রজম কর।
(1429, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1430
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মাখযুম বংশের একজন অপরের সাথে বলাবলি করল, এ ব্যাপারটি নিয়ে কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আলোচনা করতে পারে? তারা বলল, এ বিষয়ে তার সাথে কথা বলার সাহস উসামা ইবনু যাইদ ছাড়া আর কারো নেই। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুবই প্রিয়। উসামা (রাঃ) তার সাথে কথা বললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার নির্ধারিত শাস্তিসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি শাস্তি প্রসঙ্গে তুমি সুপারিশ করছ? তারপর তিনি দাড়িয়ে ভাষণ দেন এবং বলেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো একারণে ধ্বংস হয়েছে যে, তাদের মধ্যে কোন ধনী-মর্যাদাশালী লোক চুরি করলে তাকে তারা ছেড়ে দিত এবং তাদের মাঝে কোন দুর্বল প্রকৃতির লোক চুরি করলে তার উপর শাস্তি কার্যকর করত। আল্লাহর শপথ মুহাম্মাদের মেয়ে ফাতিমাও যদি চুরি করত তবে আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৪৭), নাসা-ঈ মাসউদ ইবনুল আজমাআ বা ইবনুল আজম, ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
(1430, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1431
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজমের আইন বাস্তবায়ন করেছেন, আবূ বাকর (রাঃ)-ও রজমের আইন বাস্তবায়ন করেছেন এবং রজমের আইন আমিও বাস্তবায়ন করছি। আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবের মধ্যে যদি কোন কিছু যোগ করাকে আমি নিষিদ্ধ মনে না করতাম তবে অবশ্যই এই বিধান মাসহাফে (কুরআনে) লিখে দিতাম। কেননা আমার ভয় হয় যে, পরবর্তী সময়ে মানব জাতির এমন দল আসবে যারা এই হুকুম আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবে না দেখতে পেয়ে তা অস্বীকার করবে। সহীহ, তা’লীক আলা ইবনু মা-জাহ, ইরওয়া (৮/৫০৪) আলী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উল্লেখিত হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।
(1431, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1432
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট হতে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি (উমার) বলেন, আল্লাহ তা'আলা নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন এবং তার উপর কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছেন। তিনি যা কিছু তার উপর অবতীর্ণ করেছেন তার মধ্যে রজম বিষয়ক আয়াতও ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজমের বিধান কার্যকর করেছেন। আমরাও তার মৃত্যুর পর রজমের বিধান কার্যকর করেছি। আমার ভয় হচ্ছে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর কেউ হয়ত বলবে, আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবে তো আমরা রজমের উল্লেখ দেখতে পাচ্ছি না। তারা এভাবেই আল্লাহ্ তা'আলার নাযিলকৃত একটি বিধান ছেড়ে দিয়ে পথভ্রষ্ট হবে। সাবধান! যিনাকারীকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করা আল্লাহ্ তা'আলার কিতাব দ্বারা প্রমাণিত, যদি সে সুরক্ষিত (বিবাহিত) হয় এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বিদ্যমাণ থাকে অথবা অন্তঃসত্তা প্রকাশিত হয় অথবা নিজেই এর স্বীকারোক্তি করে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৫৩), নাসা-ঈ আলী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উমার (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।
(1432, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1433
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি আবূ হুরাইরা, যাইদ ইবনু খালিদ ও শিবল (রাঃ)-এর নিকট শুনেছেন। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে উপস্থিত ছিলেন। এসময় দু'জন লোক ঝগড়া করতে করতে (তা সমাধানের উদ্দেশ্যে) তার সামনে আসে। তাদের একজন দাড়িয়ে বলে, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমাদের দু'জনের মধ্যে আপনি আল্লাহ তা'আলার কিতাব মোতাবিক সমাধান করে দিন। তার বুদ্ধিমান প্রতিপক্ষ বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহ তা'আলার কিতাব মোতাবিক আমাদের দু'জনের মধ্যে সমাধান করে দিন এবং আমাকে কথা বলার সম্মতি দিন। আমার পুত্র তার কাছে মজুর হিসাবে ছিল। সে তার স্ত্রীর সাথে যিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। লোকজন আমাকে বলল, আমার ছেলের উপর রজম কার্যকর হবে। আমি এর পরিবর্তে আমার ছেলের পক্ষ হতে তাকে এক শত বকরী এবং একটি গোলাম প্রদান করি। তারপর কয়েকজন আলিমের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। তাদের মতে আমার ছেলেকে একশত বেত্ৰাঘাত প্রদান করতে হবে। এবং এক বছরের নির্বাসন শাস্তি ধার্য হবে। আর এই ব্যক্তির স্ত্রীর উপর রজম কার্যকর হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সেই মহান প্রভুর শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! আমি অবশ্যই আল্লাহ্ তা'আলার কিতাব অনুযায়ী তোমাদের দু’জনের মাঝে ফায়সালা করব। তুমি একশত বকরী ও গোলাম ফিরত পাবে এবং তোমার ছেলেকে এক শত বেত্ৰাঘাত করতে হবে ও এক বছরের নির্বাসনে পাঠাতে হবে। হে উনাইস! ভোরে তুমি তার স্ত্রীর কাছে যাবে। সে ব্যভিচার করার কথা স্বীকার করলে তাকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করবে। সেই স্ত্রীলোকটির কাছে গিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলে সে তার পাপের কথা স্বীকার করে এবং তিনি তাকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৪৯), নাসা-ঈ ইসহাক ইবনু মূসা আল-আনসারী-মা'ন হতে, তিনি মালিক হতে, তিনি ইবনু শিহাব হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরা ও যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে এই সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরের হাদীসের মত একই অর্থের হাদীস বর্ণনা করেছেন। মালিক (রাহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থের হাদীস কুতাইবা-লাইস হতে, তিনি ইবনু শিহাব (রাহঃ) এ সনদ সূত্রে বর্ণিত আছে। আবূ বাকরা, উবাদা ইবনুস সামিত, আবূ হুরাইরা, আবূ সাঈদ, ইবনু আব্বাস, জাবির ইবনু সামুরা, হাযযাল, বুরাইদা, সালামা ইবনুল মুহাবিবক, আবূ বারযা ও ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা ও যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মালিক ইবনু আনাস, মামার, প্রমুখ যুহরী হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরা ও যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ)-এর সনদসূত্রে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “ক্রীতদাসী যিনা করলে তাকে চাবুক মার। সে চতুর্থবার যিনা করলে তাকে বিক্রয় করে দাও পশমের একটি দড়ির বিনিময়ে হলেও”। যথার্থ কথা হল, এখানে ভিন্ন দুটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এর একটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে আবূ হুরাইরা ও যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। আর দ্বিতীয় সনদে আবদুল্লাহ ইবনু মালিক (রাঃ)-এর সূত্রে শিবল ইবনু খালিদ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রীতদাসী যিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হলে....."। এই শেষোক্ত সূত্রটিই হাদীস বিশেষজ্ঞদের নিকট সহীহ। উভয় হাদীসের বর্ণনাকারী সুফিয়ান ইবনু উআইনা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে হাদীস দু'টিকে (একই হাদীস মনে করে) আবূ হুরাইরা, যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) ও শিবল (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম.....। আসল কথা হল, শিবল (রাহঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখা পাননি। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মালিক আওসীর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইবনু উআইনার বর্ণিত হাদীস সুরক্ষিত নয়। তার কাছ থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি নামোল্লেখ করতে গিয়ে ভুল করে বলেছেন শিবল ইবনু হামীদ। অথচ হবে শিবল ইবনু খালিদ এবং তিনি শিবল ইবনু খুয়াইলিদ নামেও পরিচিত।
(1433, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1434
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার নিকট হতে তোমরা জেনে নাও। তাদের (যিনাকারীদের) জন্য আল্লাহ তা'আলা একটি রাস্তা (ব্যবস্থা) করে দিয়েছেন। বিবাহিত পুরুষ ও স্ত্রীলোক পরস্পর যিনা করলে তাদের প্রত্যেককে একশত ঘা চাবুক মারতে হবে, তারপর পাথর মেরে হত্যা করতে হবে। অবিবাহিত পুরুষ বা স্ত্রীলোক যিনা করলে তাদের প্রত্যেককে একশত ঘা চাবুক মারতে হবে এবং এক বছরের নির্বাসনে পাঠাতে হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৫০), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুসারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে আলী ইবনু আবী তালিব, উবাই ইবনু কাব, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ ও আরো কয়েকজন সাহাবী আমল করেছেন। তারা বলেছেন, বিবাহিত যিনাকারীকে প্রথমে বেত্ৰাঘাত করতে হবে, তারপর রজম করতে হবে। এই মত দিয়েছেন ইমাম ইসহাকও। আবূ বাকর, উমার (রাঃ) এবং আরো কিছু সাহাবী বলেছেন, বিবাহিত যিনাকারীকে রজম করতে হবে, তাকে বেতের শাস্তি প্রদান করবে না। কেননা মায়িযের ঘটনা সম্পর্কিত হাদীসে এবং আরো কিছু হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করার (পাথর মেরে হত্যার) হুকুম দিয়েছেন, কিন্তু এর পূর্বে বেত্ৰাঘাত করার হুকুম দেননি। এই মত গ্রহণ করেছেন সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, ও আহমাদও।
(1434, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1435
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, জুহাইনা বংশের এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিজের যিনার কথা স্বীকার করে এবং বলে, আমি গর্ভবতী অবস্থায় আছি। এবং বলেনঃ তার সাথে উত্তম আচরণ কর এবং সে সন্তান প্রসব করার পর আমাকে খবর দিও। তার অভিভাবক তাই করল। তিনি তার ব্যাপারে আদেশ করলেন এবং সে মোতাবিক তার দেহে তার কাপড় শক্তভাবে বাধা হল। তারপর তিনি তাকে রজম করার (পাথর মেরে হত্যার) হুকুম করলেন। অতএব তাকে রজম করা হল। তারপর তিনি তার জানাযার নামায আদায় করেন। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তাকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তাকে রজমের নির্দেশ দিলেন আবার আপনিই তার জানাযার নামায আদায় করলেন তিনি বললেনঃ সে এরূপ তাওবা করেছে যদি তা মাদীনার সত্তরজন লোকের মধ্যে বন্টন করা হয়, তবে সেই তাওবা তাদের সকলের (গুনাহ মাফের) জন্য যথেষ্ট হবে। হে উমার! সে আল্লাহ্ তা'আলার সস্তুষ্টির জন্য তার জীবনকে কুরবানী করে দিয়েছে। তুমি কি এর চেয়েও উত্তম কিছু পেয়েছ? সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৫৫, মুসলিম। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
(1435, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1436
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, যিনাকারী একজন ইয়াহুদী পুরুষ ও একজন ইয়াহুদী মহিলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজমের নির্দেশ দেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৭৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সাথে আরো বিস্তারিত বিবরণ আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
(1436, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1437
Sahih Lighairihi
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিনাকারী একজন ইয়াহুদী পুরুষ ও একজন মহিলাকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করার নির্দেশ দেন। সহীহ পূর্বের হাদীসের সহায়তায়। ইবনু উমার, বারাআ, জাবির, ইবনু আবী আওফা, আবদুল্লাহ ইবনু হারিস ইবনু জাযই ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তারা বলেছেন, আহলে কিতাবগণ নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়ে তার সমাধানের জন্য মুসলিম বিচারকের নিকট এলে—তিনি কুরআন-সুন্নাহ ও মুসলিমদের আইন-কানুন মতো বিচার করবেন। এই অভিমত প্রকাশ করেছেন আহমাদ ও ইসহাকও। অপর একদল অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, যিনার বেলায় তাদের উপর হাদ প্রতিষ্ঠিত করা হবে না। প্রথমোক্ত মতই অনেক বেশি সহীহ।
(1437, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1438
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (যিনাকারীকে) বেত্ৰাঘাত করেছেন ও নির্বাসন দণ্ড দিয়েছেন, আবূ বাকর (রাঃ) বেত্ৰাঘাত করেছেন ও নির্বাসন দিয়েছেন এবং উমার (রাঃ)-ও বেত্ৰাঘাত করেছেন এবং নির্বাসন দণ্ডও প্রদান করেছেন। সহীহ, ইরওয়া (২৩৪৪) আবূ হুরাইরা, যাইদ ইবনু খালিদ ও উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা গরীব বলেছেন। এ হাদীসটি একাধিক বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীসের সূত্রে মারফুভাবে বর্ণনা করেছেন। কিছু বর্ণনাকারী হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবনু ইদরীস হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ হতে, তিনি নাফি হতে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ বকর (রাঃ) প্রহার করেছেন ও নির্বাসন দিয়েছেন, উমার (রাঃ) প্রহার করেছেন ও নির্বাসন দিয়েছেন। এ হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীসের তত্ত্ববধান ছাড়াও মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক-নাফি-ইবনু উমর (রাঃ)-এর সূত্রে কয়েকজন বর্ণনাকারী এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ “আবূ বাকর (রাঃ) চাবুক পিটিয়েছেন এবং নির্বাসন শাস্তিও দিয়েছেন। উমর (রাঃ)-ও চাবুক পিটিয়েছেন এবং নির্বাসন শাস্তিও দিয়েছেন।” এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম উল্লেখ নেই। নির্বাসন শাস্তির বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে সহীহ সনদে হাদীস বর্ণিত আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে আবূ হুরাইরা, যাইদ ইবনু খালিদ, উবাদা ইবনু সামিত ও অন্যান্য সাহাবীগণ এ সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস মোতাবিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিজ্ঞ সাহাবী, যেমন আবূ বাকর, উমার, আলী, উবাই ইবনু কাব, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ যার (রাঃ) প্রমুখ সাহাবী আমল করেছেন। অনেক ফিকহবিদ তাবিঈরও একইরকম অভিমত বর্ণিত আছে। অনুরূপ অভিমত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও।
(1438, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1439
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে কোন এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা এই কথার উপর আমার নিকট বাই’আত করঃ আল্লাহ্ তা'আলার সাথে তোমরা কোন অংশীদার স্থাপন করবে না, চুরি করবে না এবং যিনা-ব্যভিচার করবে না। তারপর তিনি বাই’আত বিষয়ক পূর্ণ আয়াত তাদেরকে তিলাওয়াত করে শুনালেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের যে লোক এই বাই’আত পূর্ণ করবে, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট রয়েছে তার জন্য তার পুরস্কার। আর কোন মানুষ এর কোন একটি অপরাধে জড়িয়ে পড়লে এবং এর জন্য তাকে শাস্তিও প্রদান করা হলে তাতে তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে। আর কোন মানুষ এর কোন একটি অপকর্ম করে বসলে এবং আল্লাহ তা'আলা সেটাকে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে দিলে তার প্রসঙ্গটি আল্লাহ তা'আলার উপর ন্যস্ত। তাকে আল্লাহ তা'আলা চাইলে শাস্তিও দিতে পারেন আবার মাফও করে দিতে পারেন। সহীহ, ইরওয়া (২৩৩৪), নাসা-ঈ আলী, জারীর ইবনু আবদুল্লাহ ও খুযাইমা ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, “হাদ বাস্তবায়িত হলে তা অপরাধীর গুনাহের কাফফারাস্বরূপ” —আমি এ প্রসঙ্গে এটা হতে উত্তম হাদীস আর কখনো শুনিনি। তিনি আরো বলেন, কোন মানুষ গুনাহে লিপ্ত হলে এবং সেটাকে আল্লাহ তা'আলা গোপন রাখলে আমি এই নীতি তার জন্য উত্তম মনে করি যে, অপরাধীও সেটাকে গোপন করে রাখবে এবং তার ও প্রভুর মধ্যকার বিষয়টি প্রসঙ্গে তার নিকট তাওবা করতে থাকবে। আবূ বাকর এবং উমার (রাঃ) হতেও বর্ণিত আছে যে, একজন মানুষকে তারা দু’জনেই নিজের গুনাহের কথা গোপন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
(1439, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1440
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কারো দাসী ব্যভিচারে লিপ্ত হলে তাকে আল্লাহ তা'আলার কিতাবের নির্দেশ মোতাবেক তিনবার চাবুক পেটা কর। যদি এরপরও (চতুর্থবার) সে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তাহলে তাকে বিক্রয় করে দাও একটি পশমের দড়ির পরিবর্তে হলেও। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৬৫), নাসা-ঈ আবদুল্লাহ ইবনু মালিক (রাঃ)-এর সূত্রে আলী, আবূ হুরাইরা, যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) এবং শিবল (রাহঃ) হতে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করেছেন। তারা মনে করেন, মালিক তার গোলামের উপর ব্যভিচারের শাস্তি প্রতিষ্ঠিত করবে, শাসক নয়। এই অভিমত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও। তাদের অন্য একদল বলেছেন, মালিক নিজে হাদ প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না। তাকে শাসকের নিকট সোপর্দ করতে হবে। প্রথম মতটিই অনেক বেশি সহীহ
(1440, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1441
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবূ আবদুর রাহমান আস-সুলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আলী (রাঃ) তার বক্তৃতায় বলেন, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের গোলামদের উপর হাদ প্রতিষ্ঠিত কর, তারা বিবাহিত হোক অথবা অবিবাহিত যেটাই হোক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন দাসী যিনা করলে তাকে চাবুক পিটানোর জন্য তিনি আমাকে হুকুম করেন। আমি তার নিকট এসে দেখলাম, সে এইমাত্র সন্তান প্রসব করেছে। আমার ভয় হল, আমি যদি তাকে চাবুক পেটা করি তাহলে হয়ত তাকে হত্যা করে ফেলব অথবা বলেছেন, সে মরে যেতে পারে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে এসে বিষয়টি তাকে অবহিত করলাম। তিনি বলেনঃ (তার শাস্তি স্থগিত রেখে) তুমি ভালই করেছ। সহীহ, ইরওয়া (৭/৩৬০), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। সুদীর নাম ইসমাঈল, পিতা আবদুর রাহমান, তিনি তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং হুসাইন ইবনু আলী ইবনি আবী তালিবকে দেখেছেন।
(1441, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1442
Daif Isnaad
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির উপর দু'টি জুতা দিয়ে চল্লিশ ঘা হাদ্দ কায়িম করেন। সনদ দূর্বল মিসআর বলেন, আমার মনে হয় এটা মাদক সেবনের ঘটনা ছিল। সায়িব, ইবনু আব্বাস ও উকবা ইবনুল হারিস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ সাঈদ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আবূ সিদ্দিকের নাম বাকর, পিতা আমর, মতাতন্তরে পিতার নাম কাইস।
(1442, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 1443
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একজন লোককে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে আসা হয়। সে মাদক সেবন করেছিল। তিনি দুইটি খেজুরের ডাল দিয়ে তাকে প্রায় চল্লিশটি বেত্ৰাঘাত করেন। আবূ বাকর (রাঃ)-ও একইরকম শাস্তি দেন। উমার (রাঃ) খালীফা হওয়ার পর জনগণের সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করেন। আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) তখন বলেন, আশিটি বেত্ৰাঘাত হল সবচেয়ে হালকা (সর্বনিম্ন) শাস্তি। অতএব উমার (রাঃ) আশিটি বেত্ৰাঘাতেরই আদেশ দিলেন। সহীহ, ইরওয়া (২৩৭৭), মুসলিম, বুখারী সংক্ষিপ্তভাবে। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবৃ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল অভিজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ আমল করেছেন। তারা মনে করেন মাদকদ্রব্য সেবনকারীকে আশিটি বেত্ৰাঘাত প্রদান করতে হবে।
(1443, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)